• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন

মেয়ের স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে মা’য়ের অনশন

banglar anandabazar / ৫৭১ Time View
Update : শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

এম জাফরান হারুন, নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীতে বিয়ের দাবিতে মেয়ের শিক্ষকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক মা। শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের প্রধান শিক্ষক মো. রশিদ মাস্টারের বাড়িতে ওই মেয়ের মা অনশন করছেন। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাড়ি ছেড়েছেন প্রধান শিক্ষক।

রশিদ মাস্টার পূর্ব কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ওই মা একই ইউনিয়নের বাসিন্দা।

প্রতিবেশীরা বলেন, সকালবেলা থেকেই ওই মা বিয়ে করার জন্য রশিদ মাস্টারের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি নাকি পটুয়াখালী থেকে এসেছেন। এর আগে কখনো তাকে দেখা যায়নি।

অনশনরত ওই মা জানান, রশিদ মাস্টার ছয় বছর ধরে আমাকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভাড়া বাসায় রেখেছে। আমার মেয়ে তার স্কুলে পড়তো। সেখান থেকে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। আমাকে বিয়ের ছলনা দিয়ে সে এতদিন সম্পর্ক করেছে। সে আমাকে ঢাকায় নিয়ে বিয়ে করেছে। কিন্তু সেই বিয়ের কাগজ এখন পর্যন্ত দেয়নি। সে শুধুমাত্র কলেমা পড়েছে, কাবিন করেনি।

তিনি আরও জানান, রশিদ মাস্টারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে আমার বাবা-মা কেউ আমাকে আশ্রয় দেয় না। আজকে আমি অসহায় হয়ে তার বাড়িতে এসেছি বিয়ের দাবিতে। আমার একটা মেয়ে। তাও তার জন্য ছেড়ে দিয়েছি। সে আমার একটি বাচ্চাও নষ্ট করেছে। সে বলেছে আমাকে কোনো দিন ছেড়ে যাবে না। সে কোরআন শরিফ নিয়ে কসম কেটেছে।

এদিকে ওই প্রধান শিক্ষক রশিদ মাস্টারের স্ত্রী তানিয়া বেগম বলেন, ২০ বছর ধরে আমি স্বামীর সংসার করছি। এ রকম কোনো কিছু আমি আগে কখনো দেখিনি। হঠাৎ সকালে ওই মহিলা আমার ঘরে উঠে আমার স্বামীকে বলছে বিয়ে করতে। এটা আসলে ষড়যন্ত্র। আমার ছেলে রাজনীতি করে। আমাদের প্রতিপক্ষ একটি দল ষড়যন্ত্র করে এই মহিলাকে এখানে পাঠিয়েছে।

প্রধান শিক্ষক রশিদ মাস্টার বলেন, আমার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদেরকে আমি চিহ্নিত করতে পেরেছি। স্থানীয় মেম্বারদেরকে আমি অবহিত করেছি। তারা যদি এটার সমাধান না করতে পারে তাহলে আমি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এর আগেও সে আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছিল। মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। কারণ মামলায় যে ছবি ও ডকুমেন্ট দেখিয়েছে সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

আপনি বাড়ি ছেড়েছেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর বাইরে চলে যাই। এরপর একটি স্কুলে প্রোগ্রাম ছিল সেই প্রোগ্রামে গিয়েছি। এখন আমি মেম্বারের বাড়িতে আছি।

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category