মো. বাদল হাওলাদার কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে বিষখালী নদীর পানি ঢুকে কাঁঠালিয়া উপজেলার অন্তত ১২টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক তলিয়ে গেছে।
স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতায় নদীর পানি প্রবেশ করায় নদী তীরবর্তী আমুয়া, হেতালবুনিয়া, মশাবুনিয়া, জয়খালী, আউরা, কাঁঠালিয়া সদর, বড় কাঠালিয়া, কচুয়া, শৌলজালিয়া, তালগাছিয়া, রঘুয়ারচর, আওরাবুনিয়া ও জাঙ্গালিয়াসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানি বাড়ার ফলে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, পুকুর, টিউবওয়েল, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ঘর সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়েছে।
জয়খালী গ্রামের বাসিন্দা মো. আইউব আলী সরদার জানান, বিষখালী নদীতে বেরিধাঁধ না থাকায় অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে রাস্তাঘাট পুকুর ডুবে গেছে। বের হয়ে গেছে পুকুরের মাছ। রাস্তার একপাশ দিয়ে পানি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হচ্ছে। মানুষের বসতঘর ও কৃষি জমি তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় পশ্চিম আউরা গ্রামের মৎস্যচাষি মো. মনির হোসেন খান বলেন, প্রতিদিন জোয়ারের লোনাপানি ঢুকে পড়ায় মৎস্য খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষায় পানি আরও বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় মাছের ঘের বা ফসলি জমিতে চাষাবাদ করলে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি, লাভের কিছু হবে না।
উপজেলা সদরের মুদি ব্যবসায়ী মো. খাইরুল আকন বলেন, স্বাভাবিক জোয়ারে উপজেলা সদরের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ এবং সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সামনের সড়কটি তলিয়ে যায়। এতে যানবাহনসহ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পরে।
স্থানীয় উত্তরআউরা গ্রামের বাসিন্দা মো. হাচিব ভুট্টো বলেন, কাঁঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ছে। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের সবকিছুই বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু রবিবারের জোয়ার ছিল একেবারেই অস্বাভাবিক। এমন উচ্চতার পানি এর আগে কখনো দেখিনি। আমরা এ অবস্থার দ্রুত সমাধান চাই। একটি টেকসই বেরিবাঁধ নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান বিন ইসলাম জানান, বিষখালী নদীতে বেরিবাঁধ না থাকায়, পানি উঠে আবার তা নেমে যাচ্ছে ফলে ফসলের কোন ক্ষতি হবেনা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.জহিরুল ইসলাম জানান, সাগরে নিম্মচাপের কারণে অস্বাভাবিক জোয়ারে উপজেলার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমরা খোঁজ খবর রাখছি। এমন পরিস্থিতি আরো ২/১ দিন বিরাজ করতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।