নিজস্ব প্রতিবেদক:ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ১১৩ নং পশ্চিম চেচরী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার সরকারের বিরুদ্ধে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ‘স্কুল ফিডিং’ প্রকল্পের পুষ্টিকর খাবার নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত এই পুষ্টিকর খাবার তিনি নিয়মিত ব্যক্তিগত সুবিধার্থে বাড়িতে নিয়ে যান।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক নিজেই নিজের মুখে এই অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন, যা এলাকায় চরম চুরির ঘটনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিশুদের মুখের গ্রাস এভাবে আত্মসাৎ করার ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে শুধু বিস্কুট চুরির ঘটনাই নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যালয়টিতে মোট ৬ জন বেতনভুক্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পরিদর্শনের সময় ৩ জন শিক্ষককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়, যার সপক্ষে কোনো ছুটি বা দাপ্তরিক প্রমাণ ছিল না।
এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায়, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস দুপুর ১২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১টা থেকে ২টা বেজে গেলেও কোনো ক্লাস শুরু হয় না। এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কক্ষসহ ভেতরের পরিবেশ চরম নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের দেওয়া খাবার চুরি এবং শিক্ষকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বাবুসহ অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।