কাঁঠালিয়া প্রতিনিধি:সারাদেশের ন্যায় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলাতেও ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার ৬টি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষকে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার কাঁঠালিয়ায় মোট ৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেন্দ্রগুলো হলো:
১. কাঁঠালিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
২. কাঁঠালিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
৩. আমির মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়
৪. চালতা বুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়
৫. আমুয়া চান মিয়া ফাজিল মাদরাসা (মাদরাসা কেন্দ্র-১)
৬. কাঁঠালিয়া সদর ফাজিল মাদরাসা (মাদরাসা কেন্দ্র-২)
সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রথম দিনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এ বছর উপজেলার ৬টি কেন্দ্র থেকে মোট ১৬৩৫ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজকের পরীক্ষায় মোট অংশগ্রহণ করেছে ১৪৬৫ জন পরীক্ষার্থী। অনিবার্য বিভিন্ন কারণে মোট ১৭০ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল বলে কেন্দ্র সচিবগণ নিশ্চিত করেছেন। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের এই সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে কাজ করছে প্রশাসন।
এবারের পরীক্ষার বিশেষ আকর্ষণ হলো প্রতিটি হলের সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে উপজেলা কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দুপুরে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন
”আমরা আজ উপজেলার ৬টি কেন্দ্রই সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। প্রতিটি হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে পরীক্ষার মান ও স্বচ্ছতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরীক্ষা উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি।”
পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্যতার সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পারবে এবং মেধার মূল্যায়ন হবে বলে তারা মনে করছেন।